জীবনে চলার পথে আমরা নানা কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। সমাধানের পথ আমাদের সামনে থাকলেও সেটি আমাদের নজরে আসে না। এটির কারণে মস্তিষ্ক সঠিক উপায়ে কাজ করার সক্ষমতা হারায়। এতে করে দেখা দেয় নানারকম মানসিক রোগ। তবে সাধারণ কিছু উপায় অবলম্বন করে দুশ্চিন্তা দূর করা যায়।
চিন্তা মূলত ভালো-খারাপ দু’ধরনের। খারাপ চিন্তা শুধু উদ্বেগ আর স্নায়বিক দুর্বলতা জাগায়। এটি মানুষকে মানসিক দিক থেকে পুরোপুরি বিদ্ধস্ত করতে যথেষ্ট। মানুষ দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণের জন্য অবশেষে মনস্তত্ববিদের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু আমরা সামান্য সচেতন হলেই নিজেরা নিজেদের দুশ্চিন্তা দূর করতে পারি। এক্ষেত্রে নিচের কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন।
১) নিজের জীবন উপভোগ করুন:
আমরা প্রায় সময়ই অতীত আর ভবিষ্যত নিয়ে হতাশাগ্রস্ত থাকি। এতে করে আমাদের বর্তমান নষ্ট হয়। কিন্তু আজ যেটা বর্তমান আগামীকাল সেটা অতীত হবে। তাই ভবিষ্যত আর অতীত নিয়ে বসে থাকলে আজকের বর্তমান হারানোর সাথে সাথে আগামীতে পাবেন হতাশায় পূর্ণ অতীত। তাই বর্তমানকে নষ্ট না করে আজকের দিনটিকে উপভোগ করুন। আপনি কেমন ভাবে বাঁচতে চান সেটা আপনার অতীত কে নিয়ন্ত্রণ না করতে দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো বাঁচুন।
২) হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পরিত্রাণের উপায় ভাবুন:
আমরা প্রায়শই কোনো কাজে ব্যর্থ হলে হতাশায় ভুগি। যার ফলে সমস্যা সমাধানের মত পথ সহজে চোখে পড়ে না। এতে করে ঐ কাজের উদ্দেশ্য ব্যহত হয়। সচরাচর এই ধারা থেকে নিজেকে বের করে আনার চেষ্টা করুন। সহজে বিশ্বাস হারাবেন না। সমাধান খুঁজুন। ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিন।
৩) কোনো কাজ করার আগে তার সবচেয়ে খারাপ পরিণতি মেনে নিতে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন:
যেকোন কাজের আগে শুধু মাত্র ইতিবাচক পরিণতি ভেবে সামনে আগানো ভুল। এতে ঐ কাজে ব্যর্থ হলে হতাশা বেড়ে যায়। তাই কাজ করার আগে তার সবচেয়ে খারাপ পরিণতি মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন । এতে ঐ কাজে ব্যর্থ হলেও হতাশার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
৪) নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন:
কথায় বলে- ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’। এই কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যত বেশি আপনি অবসর সময় পার করবেন ততই দুশ্চিন্তা আপনাকে গ্রাস করবে। এজন্য নিজেকে যতটা সম্ভব কাজে ব্যস্ত রাখুন। এতে মস্তিষ্কে হতাশার উপদ্রব অনেকাংশে কমে যায়। তবে যে কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন সেটি যেন অবশ্যই আপনার পছন্দের কাজ হয়। যে কাজ করে আপনি নিজে উপভোগ করতে পারবেন না তাতে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে।
৫) নিজেকে প্রশ্ন করুন:
হতাশা তৈরী হলে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন এবং নিজেই উত্তর খুঁজুন:
ক. কেন আমি দুশ্চিন্তা করছি?
খ. এই কাজের পরিণতি এর থেকেও খারাপ হতে পারত কি না?
গ. সমস্যা সমাধানের কি কি উপায় রয়েছে?
ঘ. সমাধানের ক্ষেত্রে কোন পথ বেছে নিলে আমার জন্য সহজ হবে?
৬) নিজেকে বিধাতার কাছাকাছি রাখুন:
ধর্ম মানুষের কাছে পরম অনুভূতি স্বরূপ। ধর্মের উপর বিশ্বাস রেখে জগতে বহু অসাধ্য সাধনের উদাহরণ রয়েছে। ধৈর্য, সহনশীলতা আর একাগ্রতার সহিত বিধাতার কাছে সমস্যা থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা করুন। নিশয়ই তিনি সাড়া দিবেন।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যতটা নজর দিই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ঠিক ততটাই উদাসীন। যে কারণে হতাশা অতি সহজেই আমাদেরকে গ্রাস করার সুযোগ পায়। আশা করি যারা হতাশার সম্মুখীন হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের জন্য এটি কাজে আসবে। জীবন আপনার নিজের, তাই চেষ্টা করুন নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করার। দেখবেন সব হতাশা পালিয়েছে!
ধন্যবাদ।।
Follow: facebook.com/saatmishali
0 Comments