আমাদের মাঝে কয়েকজন ব্যতীত বাকি সবাই বক্তৃতা দিতে বা মানুষের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে গিয়ে ইতস্তত বোধ করি। অনেকেই চায় এই বাধা অতিক্রম করতে। কিন্তু হয়তো এতটা সহজেই এই বাধা আমরা অতিক্রম করতে পারি না। যারা এটার সহজ সমাধান চায় তাদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ রইলো।
১) নিজের মনে আত্মবিশ্বাস আনুন। বক্তৃতার সবথেকে বড় বাধা হলো ভয়। ভয়কে জয় করতে পারলে সব কাজ-ই সহজ হয়ে যায়। বিশ্বাস রাখুন আপনি পারবেন।
২) ভালোভাবে বক্তৃতা তৈরি করুন। 'ভালো ভাবে' বলতে এই না যে আপনি পুরোটা মুখস্ত করবেন। যে বিষয় সম্পর্কে বক্তৃতা দিবেন সেটি সম্পর্কে আগে ভালো ভাবে জানুন। নিজে যা বুঝেন সেটাই সবার সামনে নিজের ভাষায় উপস্থাপন করুন।
৩) বক্তৃতার ভাষা সহজ রাখুন। আমরা অনেকেই হয়তো ভাবি কঠিন ভাষা প্রয়োগ করলে বক্তৃতা উন্নতমানের হয়। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শ্রোতা সহজে বুঝতে পারে এমন ভাষা ব্যবহার করুন।
৪) বক্তৃতা প্রদানের আগে রিহার্সাল দিন। এটি অনেক উপকারী একটি পরামর্শ। হঠাৎ যদি আপনি শ্রোতার সামনে উপস্থিত হন তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এজন্য আগে রিহার্সাল দিন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অথবা বন্ধুদের সামনে।
৫) বক্তৃতা কে কয়েকটি পয়েন্টে ভাগ করে নিন। এক এক করে পয়েন্ট উল্লেখ করে সর্বজনগ্রাহ্য ভাষায় উপস্থাপন করুন। এতে শ্রোতাদের ক্ষেত্রে বুঝতে সুবিধা হবে।
৬) মুখভঙ্গি ও গলার স্বরে শ্রোতাদের মাঝে উদ্রেক তৈরির চেষ্টা করুন। এমন ভাবে কথা বলুন যেন শ্রোতা আপনার বক্তৃতার পরের লাইন শোনার জন্য উৎসুখ হয়ে ওঠে।
৭) শ্রোতার সাথে নিজেকে কানেক্ট করার চেষ্টা করুন। বক্তৃতার সময় মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করুন। শ্রোতাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। তারা কেমন ভাষা শুনতে চায় সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনি আপনার সাধারণ জীবনে ঠিক যেভাবে মানুষের সাথে কথা বলুন ঠিক সেভাবেই কথা বলার চেষ্টা করুন।
এই সমস্যা হয়তো একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। তাই হতাশ হবেন না। বারবার অনুশীলন করুন। একদিন না একদিন এই বাধা আপনি নিজেই পেরিয়ে যাবেন 😊।
ধন্যবাদ।।
0 Comments